Close

সরস্বতীর পুজো বনাম “পাঠ”-এর হালহকিকত

✍️ঈশানি মল্লিক

“হোলি চাইল্ড গার্লস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল”- এর প্রিন্সিপাল সিস্টার ইসাবেল একটি সাক্ষাৎকারে স্কুল সম্পর্কে বলেছিলেন, “ছেলেমেয়েদের স্কুলকে দ্বিতীয় বাড়ি মনে করা উচিত। শিক্ষক, বন্ধু, স্কুলের অন্যান্য সকলকে নিজের পরিবারের সদস্য মানা দরকার। তারা দিনের বেশিরভাগ সময় স্কুলেই থাকে। মন থেকে এটা মনে করতে পারলেই স্কুলে আসার অনীহা কাটবে, রোজ পড়া করার অভ্যাস তৈরি হবে, উজ্জ্বল কেরিয়ার তৈরির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার জেদ ও তেজ আসবে মনে।”
স্কুলের দরজা আজ বন্ধ। স্কুলের পরিবেশ ছেলেমেয়েদের কাছে এখন প্রায় স্মৃতি।
আগে ও এখনও স্কুল খুলছে বড় ক্লাসের জন্য। ছোটদের জন্য “পাড়ায় পাড়ায় শিক্ষালয়” প্রকল্প শুরু হতে চলেছে। করোনার আবহ ছাড়িয়ে কবে আবার সবার জন্য স্কুল খুলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সামনেই বাগদেবীর পুজো। বিদ্যার দেবীকে “পুজো”-র আগে বর্তমানের “পাঠ” নিয়ে শিক্ষার্থীদের কী মনোভাব তাই নিয়ে আলোচনায় ঈশানী মল্লিক।

২০২০ সালের মার্চ মাস। হঠাৎই গোটা দেশবাসীর পরিচিত রোজনামচায় এক ঝটকায় বদল আনল অজানা ভাইরাস “করোনা”।গৃহবন্দি জীবন আবশ্যিক হয়ে উঠল। বাড়ির ছোট সদস্যরা জানতে পারল; স্কুল বন্ধ, খেলার মাঠেও যাওয়া বারণ। ঘরের বাইরে বেরোনোর কোনো উপায় নেই। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা বা কথা বলতে গেলে স্মার্ট ফোনই ভরসা। কিন্তু তাতে কি আর মন ভরে? এদিকে বাবা-মায়ের করা নিষেধ। সেদিন বাচ্চাদের বহু “কেন?”-র উত্তর দেওয়া বড়দের কাছে কঠিন হয়ে উঠলেও আজ বাচ্চারা নিজেরাই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।
ভয়াবহ মহামারী “করোনা”-র আবহে না চাইতেই জড়িয়ে পড়ল মানুষ। কর্মহারা হলেন লাখ লাখ মানুষ। যে যেভাবে পারল কোনোভাবে পেটের জোগাড়ে বেড়িয়ে পড়ল। যারা কোনো উপায় করতে পারল না তাদের জন্য বহু সেচ্ছাসেবী সংস্থা, সরকার দুবেলা মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে এগিয়ে এল। কথায় যাকে বলে, “লজ্জা ঘৃণা ভয় তিন থাকতে নয়”।
বেসরকারি সংস্থগুলো “ওয়ার্ক ফ্রম হোম”শুরু করল। এ এক নতুন রকম কাজের অভিজ্ঞতা। বাচ্চাদের “অনলাইন স্কুল” শুরু হল। বাবা-মায়েদের নাজেহাল অবস্থা এই নতুন নিয়মের বেড়াজালে।
কেমন যেন “স্বদেশী” থাকতে থাকতে হঠাৎই পরিস্থিতি আমাদের “বিদেশী” হয়ে উঠতে আবশ্যিক করল।
হাজার রকমের বিধিনিষেধের আওতায় আমাদের প্রতি মুহূর্ত বাঁধা পড়ে গেল। কর্মসূত্রে বাইরে থাকা মানুষরা আটকে পড়ল।
ভরসা হয়ে উঠল স্মার্ট ফোন। আবালবৃদ্ধবনিতা মোবাইলেই ডুব দিল। এতদিন বাবা-মা দের সন্তানদের প্রতি মোবাইল নেশার অভিযোগ কিছুটা ঘুচল বটে এই সুযোগে।
“ভিডিও কল”-এ প্রিয়জনকে দেখার তাগিদ থেকে উৎকণ্ঠাও কমল কারোর।
ট্রেন, বাস স্বাভাবিক জীবন পুরো স্তব্ধ। বুঝেই ওঠা দায় হয়ে উঠল এই “দানব”- এর মোকাবিলার উপায় কী! ডাক্তার, মনোবিদ-রা বারবার টিভিতে, বাড়ি বসে ফেইসবুক লাইভ, ইউটিউব- এ ভিডিও করে মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে শুরু করলেন।
ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীরা নতুন এক “ড্রেস”-এর সঙ্গেও পরিচিত হলেন। “পিপিই কীট”।
“রক্ষাকবচ” বলা ভাল “জীবনসঙ্গী” হয়ে উঠলো মাস্ক-স্যানিটাইজার। সবই যেন এক রাতের মধ্যে নিমেষে কেমন বদলে গেল। চাহিদার নিরিখে ব্যবসা বাড়ল মোবাইল, ইলেকট্রনিক গেজেডস, রিচার্জ, মাস্ক, স্যানিটাইজার, প্যাথলজি, কিছু পুষ্টি জাতীয় খারার, হেলথ ড্রিংক ও ওষুধের।
অনেক রকম গবেষণা, ভ্যাকসিন সব কিছুর পরও এই ৩ নং ঢেউতেও আমরা যে বিপদমুক্ত তা কোনোভাবেই বলা যায় না।
কত মানুষ প্রিয়জন হারা হলেন। কোল খালি বহু হল মায়েদের। কত বাচ্চারা অনাথ হয়ে পড়ল। নতুন নিয়ম চালু হল, করোনা ভাইরাসের কারণে মৃত্যু হলে, সাদা প্লাস্টিকে সারা দেহ মুরে নং. ফেলা হবে। “ট্রান্সপারেন্ট প্লাস্টিক”-এ মোড়া শুধু মুখটাই দূর থেকে দেখে প্রিয়জনকে বিদায় জানাতে হবে। ছোঁয়াও যাবে না। প্রিয়জন মৃত্যুর পর “অচ্ছুত” হয়ে গেল। কী “ভয়াবহ মহিমা” এই ভাইরাসের। পুরসভা বা সরকারের অধীনে যারা দাহ করার দায়িত্বে আছেন তাদের হাতে প্রিয়জনের দেহ তুলে দিতে হবে।সৎকার তারাই করবেন। শেষ যাত্রায় যাওয়াও নিষেধ। কোথায়, কখন দাহ করা হচ্ছে তাও জানা যাবে না। হাহাকার অবস্থা চারিদিকে। যা নিয়েও হয়েছে অনেক চাপানউতোর। শারীরিক অবস্থার থেকেও মানসিক অবস্থা মানুষের ক্রমেই এই সব ভয়াবহতা দেখে বাড়তে লাগল। যা “প্যনিক অ্যটাক” – এর আকার নিল।
এখন আমরা প্রায় ২ বছরের দোরগোড়ায়। বড়রা ভ্যাকসিন পেয়েছে, ১৫ বছর বয়স থেকে ছেলেমেয়েদের ভ্যাকসিন দেওয়াও শুরু হয়ে গেছে। চলছে “বুস্টার” অর্থাৎ অতিরিক্ত “জীবন নিরাপত্তা”র ভ্যাকসিন ডোজ।
বড়রা মানে আমরা রুটি রোজগারের তাগিদ বা ইচ্ছে হলে একটু বাড়ি থেকে নিজেদের মতো করে বুঝে- শুনে বেরোতে পারছি। মানুষের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাচ্ছি। দূরত্ববিধি মেনে অনেকটাই শিথিল এখন মহামারী আইন।
কিন্তু বাচ্চারা এখনো তাদের অনেকেই জানে না এতদিন ধরে ঠিক কী চলছে। এই না জানার মধ্যেই তারা রোজ দিন কাটাচ্ছে। ভাবছে হয়তো এটাই স্বাভাবিক জীবন।
কিছু শৈশব তো জানতেই পারল না “নার্সারী স্কুল” কী বিষয়। যারা স্কুল যেত তারাও আজ ভুলতে বসেছে; ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠার জন্য
মায়ের বকুনি আর সঙ্গে বাবার আদর মাখানো নরম আদরে ঘুম থেকে ওঠানো, কোনোরকম- এ এক চোখ রগড়াতে রগড়াতে ব্রাশ করা, মায়ের হাতে দুধ,বিস্কুট খাওয়া, স্কুলের জন্য তৈরি হওয়া আর পায়ে বাবার মজা জুতো পরিয়ে দিতে দিতে রোজের বলতে থাকা “সোনা আমার। ভাল করে মন দিয়ে ক্লাস করবে। একদম দুষ্টুমি নয়। স্কুলে যেন সবাই তোমায় ভাল বলে।”, রুটিন দেখে বই গোছানো, দু-কাঁধে স্কুল ব্যাগের ভার, গলায় জলের বোতল, পছন্দের টিফিন বানাতে মায়ের কাছে আবদার বা বাবার থেকে হজমি গুলি, আমচুর খাওয়ার টাকা চাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে মজা- হৈ হৈ করে টিফিন খাওয়া, রোল কলে “প্রেজেন্ট মিস / স্যর” বলা থেকে স্কুল ছুটির ঘন্টা পড়ার আনন্দ… এখন সে এক নস্টালজিয়া!
সবই এখন অতীত। এই জীবন আবার কবে ফিরবে তা এখনই বলা মুশকিল। স্পাইডারম্যান-সুপারম্যান-হাল্ক এর মতো “মুশকিল আসান”-এর দেখা যে কবে, কার হাত ধরে মিলবে তাও জানা নেই। তাহলে এখনকার “হাইটেক” জীবনে ছোটরা কতটা “টেকনোলজিস্ট” হয়ে উঠল? এবার মা সরস্বতী পুজোতেও কি
টেকনোলজির প্রভাব পড়বে?
এই মহামারীতে ছোটরা কেমন আছে? ওদের মনে এই নতুন যাপন কেমনভাবে প্রভাব ফেলছে? এই নিয়েই বেশ কয়েকমাস ধরে কিছু স্কুলের শিক্ষক ও বাচ্চাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের মনের কথা তুলে ধরা হলো:

অদৃতি হালদার: কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় (১), সল্টলেক স্কুলের ছাত্রী। ছোট থেকেই নিয়ম করে স্কুল যেত। ক্লাস ওয়ার্ক, হোম ওয়ার্ক করত। শনি-রবি ২ দিন ছুটির পর সোমবার কখন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে সেই আনন্দ নিয়ে যেই রবিবার রাতে ঘুমোতে যেত, ঠিক তখনই মনে পড়ত; যাহ! অঙ্কের হোম ওয়ার্ক তো করা হয়নি। ইতিহাসটাও পড়া হলো না। কাল ক্লাসে পড়া না পারলে বন্ধুদের সামনে মিসের কাছে বকা খেতে হবে। মা জানতে পারলেও বাড়িতে নিস্তার নেই! মুহুর্তে আঁতকে উঠে আবার পড়তে বসে যাওয়া।
করোনার জেরে এখনও স্কুল হয়। প্রোজেক্ট জমা করতে হয়। ফাইনাল পরীক্ষা হয়। তবে সবটাই অনলাইনে। মোবাইল, ট্যাব বা কম্পিউটারে। এভাবেই বন্ধুদের সঙ্গেও দেখা করতে হয়।
খামতি একটাই। স্কুলের পরিবেশ, ক্লাসে, টিফিন টাইমে মনের মতো করে চুপিচুপি, কানে কানে গোপন গল্পটা এখন আর প্রিয় বন্ধুদের বলা হয় না। টিফিন ভাগ করে ভালো- মন্দ খাওয়াও হচ্ছে না। তবে একটা নিস্তার মিলেছে। কাকভোরে আর ঘুম থেকে উঠে স্কুল যেতে হয় না। একটু ঘুমানো তো যায়! মোবাইলটাও হাতে পাওয়া যায়। এইভাবেই অদৃতি বাড়ি থেকে ২ বছর স্কুল করে সামনের মাসে ক্লাস ফাইভে উঠবে। বাড়িতেই পড়াশোনা চলছে। বাবার থেকে ইংরেজি ও অঙ্কটা (ভাল না লাগলেও) বেশ শিখে নিতে পেরেছে। আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট- এ “মা ইজ দ্য বেস্ট”। মায়ের কাছেই রোজের পড়াশোনা চলছে। দুপুর, বিকেলে পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে খেলা, সাইকেল চালানোও জারি আছে।
বাবা-মা এমনভাবেই বিভিন্ন উৎসাহ দিয়ে রেখেছেন যে, অদৃতি ভালভাবে কোভিড কী তা না জানলেও ওর মনের ওপর এর হতাশাজনক ছাপ পড়েনি।

অরিত্র হালদার: কয়েকমাস প্লে স্কুল- এ গেছিল। তারপরই সব বন্ধ হয়ে গেল। অনলাইন ক্লাসের ব্যাবস্থা নেই। বাড়িতে হাতে খড়ি থেকে লেখাপড়া শেখানো এ এক কঠিন দ্বায়িত্ব বাবা-মায়ের। সব সময়ই এদিক-ওদিক ইতিউতি ঘুরে বেড়ায় সে। এখন টিভি দেখছে তো একটু পরেই মোবাইল চাই। দিদির সঙ্গে খুনসুঁটি তো আছেই। খেলাধুলা, ফোন, কার্টুন নিয়ে ব্যস্ত। তার মধ্যেই তাকে বিভিন্ন আঁকার বই, ক্রাফট বুক দিয়ে ওয়ান – টু, এ থেকে জেড, কোনটা কিসের ছবি শেখানো চলছে। এভাবেই খেলার ছলে অনেকটা শিখেও গিয়েছে অরিত্র। শুধু স্কুল কনসেপ্ট নেই। এভাবেই বাড়িতে মা ও মিসের কাছে পড়ে অরিত্রও প্লে স্কুলে কয়েক মাস গিয়ে তারপর সোজা একেবারে সামনের শিক্ষাবর্ষে ক্লাস ওয়ান- এ ভর্তি হবে। তবুও স্কুলের নস্টালজিক মুহুর্ত তার মধ্যে কবে আসবে তা একটা বিশাল প্রশ্ন রাখছে। যদিও সে এসবের কিছুই টের পাচ্ছে না।
এরই মাঝে স্কুল কেমন হয় সে অভিজ্ঞতা একটু হয়েছে অরিত্রর। বাড়ির সামনেই “ইউরোকিডস প্রি স্কুল- নয়াবাদ” বাচ্চাদের নিয়ে কিছুদিন আগে একটি ওয়ার্কশপ করেছিল। নিয়ম মেনে স্কুল যাওয়া, স্কুল ঠিক কেমন হয়, বন্ধুদের সঙ্গে টিফিন শেয়ার করে খাওয়া, বিভিন্ন মজার খেলা, খেলার ছলে পড়া, রাইমস অনেক কিছুই কয়েকদিনের ওয়ার্কশপ থেকে জেনেছে সে। স্কুলের শিক্ষিকা উপালি সেনগুপ্ত এই বিষয়ে জানিয়েছেন,”বাচ্চারা বহুদিন ঘরবন্দী। স্কুলের দরজা, মাঠ, ক্লাসরুম কেমন হয় তা ভুলতে বসেছে তারা। শিশুরা ঘরে আটকে থাকার নয়। তাও মহামারীর জন্য বাচ্চারা বাড়িতে থেকে ফোন, টিভি দেখে বিরক্ত হয়ে পড়েছে। তাই বাচ্চাদের আনন্দ দিতেই কয়েকজন বাচ্চাদের স্কুলে এনে একটা করে ওয়ার্কশপ করা হচ্ছে মাঝেমধ্যে। মূলত বাচ্চাদের আনন্দ দেওয়া ও স্কুলের একটা ধারণা তৈরি করাই এই ওয়ার্কশপ- এর মূল লক্ষ্য।”

ঋষি অরবিন্দ মেমোরিয়াল একাডেমী: ক্লাস এইট থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত ছেলে মেয়েরা স্কুলে মাঝে মধ্যে আসতে পারলেও ছোটরা একেবারেই পারছে না। শিশুদের প্রানবন্ত রাখতে স্কুলের সেক্রেটারি অর্জুন ঘোষ ও প্রিন্সিপাল মনোনীতা মজুমদার- এর উদ্যোগে লকডাউনে স্কুল বন্ধের পর থেকেই সারা বছর ধরে নানান অনুষ্ঠান, বিশেষ মানুষের জন্মদিবসে তাদের শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের সেই বীর-গুণী মানুষদের সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান। এছাড়াও বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতা, নাচ-গান- আবৃত্তির অনুষ্ঠান, কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। করোনা বিধি মেনে স্কুলে ছেলেমেয়েদের আনা হয়। ছেলেমেয়েদের প্রতিভা যাতে হারিয়ে না যায় ও বছরের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর মাহাত্ম্য যাতে বাচ্চারা বুঝতে পারে সেই কারনেই নানান উদ্যোগ স্কুলের পক্ষে নেওয়া হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষিকা অঙ্কিতা ঘোষের কথায়, স্কুল সব সময় বাচ্চাদের পাশে আছে। পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে যতটা সম্ভব অ্যকটিভিটি বাচ্চাদের করানো হচ্ছে যাতে তাদের মনে না হয় তারা স্কুলে আসতে পারছে না। যদিও স্কুলের আনন্দই আলাদা।

এক নজরে:
সময় ও পরিস্থিতির শিকার মানুষ। তবে পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন সামনের দিকে এগোনোর পথ আমাদেরই বের করতে হবে।
নিজের জায়গা নিজেকেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ফোন, টিভি বাচ্চারা দেখলে সেগুলো মাঝেমধ্যে শিক্ষামূলক হওয়া ভীষন প্রয়োজন। নইলে বাড়িতে বন্দি থাকার পাশাপাশি তাদের প্রতিভাও নষ্ট হবে।
অনলাইনে নাচ-গান- আবৃত্তি, কোনো বাদ্য যন্ত্র বাজানো; যার যাতে আগ্রহ তা শেখানো সম্ভব হলে শেখানো যেতে পারে।
স্কুল না থাকলেও একটা নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে বাচ্চাদের না রাখলে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে।
সারাদিনের একটা রুটিন বানানো ও সেই মতো চলতে শেখাতেই হবে।
ঘরের কিছু কিছু দায়িত্ব বাচ্চাদের দিয়ে তাদের স্বনির্ভর করার অভ্যাস করানো খুব দরকার।
অনলাইন ক্লাসের পর ক্রাফট বুক, আঁকার বই, গল্পের বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে।
বাবা-মা রা সন্তানদের এভাবে রোজ গ্রুম করলে আগামীদিনে যে কোনো পরিস্থিতি, তা সে যতই কঠিন হোক না কেন নিশ্চিত থাকবেন;
আপনার সন্তান ভয় পেয়ে থমকে না গিয়ে “সব্যসাচী” – র মতো উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে থাকবে।

Leave a Reply

0 Comments
%d bloggers like this:
scroll to top