সিলভার পয়েন্ট স্কুলের রজত জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি:বালিগঞ্জ-কসবা অঞ্চলের বসবাসকারী সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য ১৯৯৭ সালের ২৬ জুলাই সিলভার পয়েন্ট স্কুল (ইংরেজি মাধ্যম) চালু করা হয়েছিল। প্রয়াত শ্রী পান্নালাল রায়চৌধুরী এবং শ্রীমতি বাণী রায়চৌধুরী মাত্র ৪ জন ছাত্র নিয়ে শুরু করা স্কুলের বর্তমান ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১৫০০। ২৬শে জুলাই, ২০২২ হাঁটি হাঁটি পা পা করে সিলভার পয়েন্ট স্কুল ২৫ বছর অর্থাৎ রজত জয়ন্তী বর্ষে পদার্পণ করল। ২৫ বছর আগে স্কুল প্রতিষ্ঠার “তমসো মা জ্যোতির্গময়ো” যার অর্থ “আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যাও” এই নীতি অনুসরণ করে চলেছে। স্কুলের বহু শিক্ষার্থীই আজ দেশে-বিদেশে নানা পেশায় যুক্ত হয়ে স্কুলের মুখ উজ্জ্বল করেছে।


২৬শে জুলাই মধুসূদন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হল রজত জয়ন্তী বর্ষের অনুষ্ঠান। দুই অর্ধের এই অনুষ্ঠানে সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্বর্ধনা ও স্কুলের ছাত্রছাত্র ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডঃ অখিলেশ কুমার, সেন্টার অব এক্সেলেন্সি CBSE ভুবনেশ্বর এবং স্বামী বেদাতিতানন্দ, রামকৃষ্ণ মিশন ভোকেশনাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, বেলুড় মঠ, ও স্বামী সুপর্ণানন্দ মহারাজা, রামকৃষ্ণ মিশন। সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সম্বর্ধনা দেওয়া হয় (১) ডঃ দেবীপ্রসাদ দুয়ারি, জ্যোতির্পদার্থবিদ এবং শিক্ষাবিদ, (২) শ্রী শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য, চিত্রশিল্পী, (৩) শ্রী দিব্যেন্দু বড়ুয়া, দাবাড়ু, গ্র্যান্ড মাস্টার, (৪) অলকা কানুনগো, ওডিশি নৃত্যশিল্পী, (৫)শ্রীমতি বাণী রায়চৌধুরী, স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের।


স্কুলের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সমাজের বিভিন্ন স্তরের ২৫ জন গুণি ব্য়ক্তিবর্গকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন যাঁরা বছরব্যাপী স্কুলের তরফে নানা সাহায্য পেয়েছেন। পারমিতা বেরা (অ্যাসিড হামলার শিকার), ৪ জন নারী যাঁরা জীবনে প্রতিদিন শিক্ষার মাধ্যমেই জীবন সংগ্রামে ব্রতী রয়েছেন। স্কুলের ৪ জন শিক্ষার্থী প্রবল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে স্কুলের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। এছাড়া আরও ১৬ জনকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়।
বিনোদনের অংশ হিসেবে “আজাদি কা অমৃত মহোৎসব” উদযাপন উপলক্ষ্যে ‘ত্রিশক্তি’ নামে একটি কোরিওগ্রাফি প্রদর্শিত হয় স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পরিবেশনায়। এই আখ্যানটি আমাদের দেশের তিনটি দিক— স্বাধীনতা, উন্নয়ন এবং শক্তিকে চিত্রিত করেছে।

By Ramiz

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *