✍️By Ramiz Ali Ahmed


ছবি:জারিয়া
পরিচালক:সুমন মৈত্র
অভিনয়:রাজেস্বর, অমৃতা চট্টোপাধ্যায় ও তপতি মুন্সী

সুমন মৈত্র শর্টফিল্ম পরিচালনা করছেন এটা শুনে একটু অবাক হয়েছিলাম।তারপর তো অনেক আলোচনা,সমালোচনা।সোমবার পড়ন্ত বিকেলে পরিচালকের আমন্ত্রণে নিউ মার্কেটের এসএসআর গ্লোবে পৌঁছেছিলাম মিনিট ৩৫-এর শর্টফিল্ম “জারিয়া”(Zariyaa) দেখতে।দীর্ঘদিনের বন্ধু প্রযোজক অনিমেষ গাঙ্গুলি অবশ্য যাকে আমরা সকলে শুভ দা বলি ও পরিচালক মশাই সুমন মৈত্র দুজনেই সকল আমন্ত্রিত অতিথিদের হাসিমুখে স্বাগত জানাচ্ছিলেন।পৌঁছে দেখি বেশ পরিচিত মুখেদের ভিড়।শুরু হলো ছবির স্ক্রিনিং।প্রথাগতভাবে স্ক্রিনিং-এর আগে প্রযোজক ছবির কলাকুশলীদের ডেকে নিলেন।

ছবিতে মুখ্য তিন চরিত্র – একজন রেডিও জকি(রাজেস্বর), একজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মমেকার(অমৃতা চট্টোপাধ্যায়) যিনি মূলত তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন আরেকজন এই ফিল্মমেকারের দিদা(তপতী মুন্সী)।রেডিও জকি অর্জুন ‘জারিয়া’ নামের একটি শো চালান।ফিল্মমেকার তুলিকা আবার সেই শো-এর বড় ফ্যান।কোয়েনসিডেন্টলি অর্জুন-তুলিকার আলাপ হয়।অবশ্য তুলিকা জানতে পারে না এই অর্জুনই আর জে হামসফর যিনি ‘জারিয়া’ শো-টি পরিচালনা করেন।অর্জুন-তুলিকার আলাপ থেকে বন্ধুত্ব তারপর প্রেম।তারপর হঠাৎ একটা দিন আসে।অর্জুন জানতে পারে তুলিকা’র একটা অজানা কথা।কি সেই কথা যেটা তুলিকা জমিয়ে রেখেছিল।সেটাই ছবিটার টার্নিং পয়েন্ট।এরপর কি হয় তা জানতে হলে ইউটিউবে গিয়ে “জারিয়া”টা দেখে ফেলতে হবে।ছবিটা দেখার পর উদাস মনে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বের হয়ে মেট্রো ধরে আরেকটি অনুষ্ঠানে পৌছালাম।কিন্তু ছবির রেশ থেকে গেল অনেকক্ষন।

“ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে”-সত্যিই তাই।যিনি গুণী পরিচালক তিনি ফিচার ফিল্ম বানান বা শর্টফিল্ম কিংবা ডকুমেন্টারি তাঁর নিজস্বতার স্বাক্ষর তিনি রাখবেন।গুণী পরিচালক সুমন মৈত্র এখানেও তাঁর দক্ষতা ও নৈপুনতার সঙ্গে প্রতিটি দৃশ্যে নিজস্বতার ছাপ রেখেছেন।কাহিনিটিও নিঃসন্দেহে বুনোট কাহানি,একটি নিখাদ মিষ্টি প্রেমের কাহিনি। তুলিকার চরিত্রে অমৃতা চট্টোপাধ্যায় জাস্ট আউটস্ট্যান্ডিং।অমৃতাকে টলিউড ইন্ডাস্ট্রি আরো বেশি বেশি করে ব্যবহার করা উচিৎ।রাজেস্বর তাঁর চরিত্র অনুযায়ী যথাযথ।
আর তপতি দি(তপতি মুন্সী) সম্পর্কে কি আর বলবো!দিদিকে যখন যে চরিত্রে চরিত্রে দেওয়া সেটিই যেন তাঁর চরিত্র হয়ে যায়।

প্রযোজক অনিমেষ গাঙ্গুলি এই ছবিতে আরেকজন প্রতিভাকে আবিষ্কার করেছেন।তিনি ছবির সঙ্গীত পরিচালক মৌলি চক্রবর্তী।প্রেমের ছবি মানেই মন কেমন করে গান থাকবে।আর মিউজিক্যাল এই ছবিতে মৌলির সুরে রণজয় ভট্টাচার্য ও সায়নী পালিতের গান মন ছুঁয়ে যায়।ছবির দৃশ্যগ্রহণ,সম্পাদনা সবেতেই নৈপুনতার ছাপ।সুমন মৈত্র প্রমান করলেন ভালো গল্প ও নির্মাণ হলে ছোট হোক বা বড় যেকোন ছবিই দর্শকদের মন কাড়বে।

By Ramiz

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *