Oasis Foundation আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “সদগুরু চরণ”

নিজস্ব প্রতিবেদক:সম্প্রতি বিড়লা অ্যাকাডেমিতে Oasis Foundation আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “সদগুরু চরণ”- গুরু-শিষ্য পরম্পরাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই এই অনুষ্ঠানের মূল সুর ছিল । অনুষ্ঠানটি দীর্ঘ আয়োজনের হলেও নানান বৈচিত্র‍্যে ছিল ভরা। ভারত সেবাশ্রম সংঘের শ্রী অতুল মহারাজ, ভাস্কর পদ্মশ্রী বিমানবিহারী দাস, সঙ্গিতাচার্য পন্ডিত শ্রী অলক চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শ্রীমতি পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়, ওয়েসিস ফাউন্ডেশনের সম্পাদক শ্রী অরিন্দম বোস এবং অধ্যক্ষ শ্রীমতি দোয়েল বোস পুষ্প নিবেদন করে মাঙ্গলিক সূচনা করেন। তারপর অতুল মহারাজের
স্তোত্র পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ভাস্কর পদ্মশ্রী বিমানবিহারী দাস, সঙ্গিতাচার্য পন্ডিত শ্রী অলক চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শ্রীমতি পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়, ওয়েসিস ফাউন্ডেশন এর সম্পাদক শ্রী অরিন্দম বোস এবং অধ্যক্ষ শ্রীমতি দোয়েল বোস।


সঙ্গিতাচার্য পন্ডিত সিদ্ধেশ্বর ভট্টাচার্যের নামাঙ্কিত মরণোত্তর পুরস্কার প্রদান করা হয় পত্নী চঞ্চলা ভট্টাচার্যের হাতে, একইভাবে বিশিষ্ট বিশিষ্ট সেতার শিল্পী পন্ডিত রাঁধাকৃষ্ণ বোস নামাঙ্কিত মরণোত্তর পুরস্কার প্রদান করেন পদ্মশ্রী বিমানবিহারী দাস মহাশয় এবং সেটি গ্রহন করেন শিল্পীর পত্নী শ্রীমতি শ্রিপ্রা বোস,একইভাবে শ্রী বঁচনলাল মিশ্রের পত্নী শ্রীমতি মঞ্জু মিশ্রর হাতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।


অনুষ্ঠান শুরু হয় অহনা বোসেৱ গণেশ বন্দনা গান এবং সৃজিতা বসুর সরোদ বাদনের মাধ্যমে। এরপর গুরু সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাত্রীরা “গণেশ বন্দনা” নিবেদন করেন। লখনৌ ঘরানার কত্থক নৃত্যের প্রদর্শন করেন সৃজিতা সেবক ঘটক। রবীন্দ্র-নজরুল নৃত্যের প্রদর্শন করেন গুরু নন্দিতা দেবেৱ ছাত্রীগন। গুরু বন্দনা বসুর পরিচালনায় কসবা সারদা কালচারাল গ্রুপ তাদের অসাধারন নৃত্য নিবেদন করেন। গুরু রাজীব ভট্টাচার্যের “সৃজন ছন্দ” গ্রুপ ওড়িশি এবং রবীন্দ্র নৃত্যের অনবদ্য নিবেদন করেন। গুরু অলকা কানুনগোর ছাত্রী পৌলোমী চক্রবর্তীর মিত্র তাঁর দশমহাবিদ্যা নাচে মুগ্ধ করেন। গুরু পৌষালী মুখার্জির ছাত্রীরা ওড়িশি নৃত্যের প্রদর্শন করেন।বর্ধমানের সনামধন্য দল “মল্লিকা” সমবেত সংগীত শোনান । বিশিষ্ট লোকনৃত্য শিল্পী শ্রী সুমন মন্ডল এর পরিচালনায় বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট নৃত্য শিল্পীগন জুনায়েদ আহমেদ ও সুদীপ্ত দাস তাদের অসাধারন নৃত্য প্রদর্শন করেন। সুদুর কার্ডিফ (ইংল্যান্ড) থেকে অসাধারন কত্থক নৃত্য প্রদর্শন করেন বিশিষ্ট নৃত্য শিল্পী শ্রীমতি অমৃতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রী আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের কত্থক নৃত্য প্রদর্শন ছিল দৃষ্টিনন্দন।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিউড়ী জেলার ডি.এম. বিশিস্ট সেতার শিল্পী শ্রী শুভ্রজ্যোতি ঘোষ।তার অসাধারণ সেতার বাদন মুগ্ধ করেছে দর্শকদের, তাল বাদ্যে ছিলেন শ্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। বিশিষ্ট আইপিএস অফিসার শ্রী ইন্দ্রজিৎ বসুর বাঁশুরি বাদনে এক অসাধারণ মনোগ্রাহী অনুষ্ঠান শুনলেন দর্শকবৃন্দ। তাল বাদ্যে ছিলেন সোহন ঘোষ।অনুষ্ঠানে সম্মান জ্ঞাপন করা হয় নৃত্যাচার্য শ্রী এম চিরালা ভেদান্ত কৃষ্ণ, নৃত্যাচার্য শ্রীমতি পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়, নৃত্যাচার্য শ্রীমতি পৌষালী মুখোপাধ্যায়, নৃত্যাচার্য শ্রী এস.কে কুট্টি মহাশয়, গুরু শ্রী রাজীব ভট্টাচার্য, শ্রী আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেছেন শ্রীমতি মেঘনা নন্দী। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওয়েসিস ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার পরিসমাপ্তি ঘটে। এযাবৎ কালে এই রকম বিশিষ্ট শিল্পীবর্গের উপস্থিতিতে এই ধরনের বিস্তারিত দীর্ঘ ১০ঘন্টা যাবৎ রুচিপূর্ণ অনুষ্ঠান দুলর্ভ।