বাংলা ছবির পর্দায় নতুন জুটি নিয়ে আসছেন পরিচালক দুর্জয় মণ্ডল। তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘অভিনেত্রী’-তে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধছেন ওম সাহানি ও মৌপিয়া গোস্বামী। ছবির ঘোষণা এবং প্রথম ঝলক প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ছবিটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
তবে ‘অভিনেত্রী’-কে শুধুমাত্র প্রচলিত প্রেমের ছবি হিসেবে দেখতে নারাজ পরিচালক দুর্জয় মণ্ডল। তাঁর কথায়, ছবির আবেগ, চরিত্র এবং গল্প বলার ধরন—সবকিছুর মধ্যেই দর্শকের জন্য থাকবে একাধিক চমক। কিন্তু সেই চমক ঠিক কী, তা এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না নির্মাতা।
ছবির কেন্দ্রে রয়েছে ওম সাহানির কাব্য রায় এবং মৌপিয়া গোস্বামীর পদ্মজা।

দুই ভিন্ন স্বপ্নের মানুষ কীভাবে একে অপরের জীবনে এসে পড়ে, তারপর তাদের একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পথে কী কী ওঠানামা আসে, সেই পথ কতটা সহজ বা কঠিন হয় এবং সেই সমস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের সম্পর্ক কীভাবে বদলাতে থাকে—সেই গল্পই এগিয়ে নিয়ে যাবে ‘অভিনেত্রী’।
ওম সাহানি তাঁর চরিত্র কাব্য সম্পর্কে বলেন,
“আমার চরিত্রের নাম কাব্য রায়। কাব্য একজন উঠতি লেখক, যে গল্প এবং চিত্রনাট্য লেখে। বিভিন্ন পরিচালক ও প্রযোজকের অফিসে ঘুরে বেড়ায়। এই মুহূর্তে তার struggle period চলছে। এর মধ্যেই কীভাবে তার সঙ্গে পদ্মজার দেখা হয় এবং তারপর দু’জনের জীবনের এগিয়ে যাওয়ার পথে কী কী বাধা আসে, ওঠানামার মধ্য দিয়ে কীভাবে তারা এগিয়ে যায়, সেই পথ তারা একসঙ্গে পাড়ি দিতে পারে কি না—সেই গল্পই ছবিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং জীবনের বিভিন্ন reality check তারা কীভাবে সামলে নেয়, সেটাও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

অন্যদিকে পদ্মজা চরিত্রটি মৌপিয়া গোস্বামীর কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“‘অভিনেত্রী’ ছবিতে পদ্মজা চরিত্রটি আমার কাছে অত্যন্ত বিশেষ। পদ্মজা একজন প্রতিভাবান ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী মডেল এবং অভিনেত্রী, যে নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বিনোদন জগতে নিজের পরিচয় তৈরি করতে চায়। চরিত্রটির মধ্যে যেমন স্বপ্ন রয়েছে, তেমনই রয়েছে নানা আবেগ ও চ্যালেঞ্জ। পদ্মজাকে পর্দায় তুলে ধরার অভিজ্ঞতা আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের এবং একইসঙ্গে শিক্ষণীয়। এই চরিত্রটির জন্য আমাকে বিশ্বাস করার এবং পদ্মজার মতো একটি সুন্দর চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য পরিচালক দুর্জয় মণ্ডলের কাছে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আশা করি, দর্শকরা পদ্মজার স্বপ্ন, লড়াই এবং আবেগের সঙ্গে নিজেদের কোথাও না কোথাও মিল খুঁজে পাবেন এবং ‘অভিনেত্রী’ ছবিতে আমার অভিনয় ভালোবাসায় গ্রহণ করবেন।”
ছবিতে কাব্য ও পদ্মজার সম্পর্ক শুধুমাত্র প্রেমের সরল সমীকরণে আটকে নেই। তাদের ব্যক্তিগত স্বপ্ন, পেশাগত লড়াই, বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন—সবকিছু মিলিয়ে গল্পটি ধীরে ধীরে অন্য এক মাত্রা পেতে চলেছে। আর সেই জায়গাতেই পরিচালক দুর্জয় মণ্ডল গল্পের মধ্যে রহস্য এবং মনস্তাত্ত্বিক স্তর যোগ করেছেন।
পরিচালক দুর্জয় মণ্ডল বলেন,
“‘অভিনেত্রী’ নিয়ে এখন বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না। কারণ আমি চাই দর্শক ছবিটা দেখতে বসে একের পর এক চমক আবিষ্কার করুন। এটা শুধু প্রেমের গল্প নয়, আবার শুধুই রহস্যের গল্পও নয়। ছবির আবেগের সঙ্গে রহস্য এবং চরিত্রের মনস্তত্ত্ব এমনভাবে মিশে আছে, যেখানে দর্শক শেষ পর্যন্ত নিজের মতো করে গল্পটাকে অনুভব করবেন।”
ওম সাহানি ও মৌপিয়া গোস্বামীর নতুন জুটি প্রসঙ্গে পরিচালক আরও বলেন,
“ওম এবং মৌপিয়াকে আমি এই ছবির জন্য খুব সচেতনভাবেই বেছে নিয়েছি। ওদের মধ্যে এমন একটা ফ্রেশ এনার্জি আছে, যেটা পর্দায় নতুন রসায়ন তৈরি করবে। আমি বিশ্বাস করি, এই ছবির পর দর্শক এই জুটিকে নতুনভাবে দেখতে চাইবেন।”
ছবির গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পর্কে এখনও রহস্য বজায় রাখছেন নির্মাতারা। পরিচালক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গল্পের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলি আগেভাগে প্রকাশ করতে চান না তিনি। তাঁর কথায়,
“ট্রেলার, পোস্টার বা সংবাদে গল্প বলে দিলে ‘অভিনেত্রী’-র আসল মজা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এখন শুধু এটুকুই বলব—দর্শক যা ভাবছেন, ছবিটা হয়তো ঠিক সেখানেই থামবে না।”
প্রেম, স্বপ্ন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অজানা এক রহস্যের আবহ—সব মিলিয়ে ‘অভিনেত্রী’ ধীরে ধীরে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করছে। কাব্য ও পদ্মজার ব্যক্তিগত ও পেশাগত journey শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তাদের সম্পর্ক বাস্তবতার পরীক্ষায় কতটা টিকে থাকে এবং গল্পের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্য কোথায় গিয়ে পৌঁছয়—সেই উত্তরই আপাতত তুলে রাখা হচ্ছে দর্শকদের জন্য।
‘অভিনেত্রী’—কী গল্প, তা এখনই নয়; বরং গল্পটি দর্শককে কোথায় নিয়ে যাবে, সেটাই হতে চলেছে ছবিটির আসল চমক।
ছবি:বাপ্পাদিত্য কুন্ডু

