পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর কলকাতাজুড়ে আয়োজিত হতে চলেছে ‘শতবর্ষে মহানায়ক’

বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির ইতিহাসে মহানায়ক উত্তমকুমারের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর কলকাতাজুড়ে আয়োজিত হতে চলেছে ‘শতবর্ষে মহানায়ক’; যার মধ্য দিয়ে মহানায়কের শিল্পীসত্তা, চলচ্চিত্র-উত্তরাধিকার এবং বাংলা সংস্কৃতিতে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।

এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য চলচ্চিত্রচর্চা, প্রদর্শনী, আলোচনা, সংগীত ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, আহিরিটোলা ও টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের পাশাপাশি বিজলী সিনেমার সামনে উন্মোচিত হবে ২০ ফুটের বিশেষ কাট-আউট। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় নন্দন প্রাঙ্গণ থেকে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস, বিড়লা তারামণ্ডল হয়ে এক বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের বিশিষ্ট শিল্পী, তারামণ্ডল মিণ্ডল হয়ে একতারা মুক্তমঞ্চ পর্যন্ত চলচ্চিত্র সমালোচক, লোচক, লোকশিল্পী ও পৃষ্ঠপোষকগণের অংশগ্রহণে এই পদযাত্রা মহানায়কের স্মৃতিকে প্রেক্ষাগৃহের গণ্ডি ছাড়িয়ে শহরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে।

গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শশালায় উদ্বোধন হবে মহানায়কের স্মৃতিতে বিশেষ প্রদর্শনী যেখানে দেখা যাবে কিংবদন্তির জীবনের বহু জানা-অজানা তথ্য। একই সঙ্গে নন্দন ৪-এ থাকছে মহানায়কের সম্পর্কে প্রকাশিত বিভিন্ন বিভিন্ন প্রকাশনার প্রদর্শনী। প্রদর্শনী। সন্ধ্যায় একতারা মুক্তমঞ্চে প্রদীপ প্রজ্বলন, শতবর্ষের কেক কাটা এবং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের কর্মসূচির পরিসমাপ্তি ঘটবে।

৪ সেপ্টেম্বর হবে এই উদ্যাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। নিউ টাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নন্দন-১, নন্দন-২ ও রাধ রাধা স্টুডিওয় শুরু শুরু হবে উত্তমকুমারকে কেন্দ্র করে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক। রবীন্দ্র সদনে প্রবীণ শিল্পীদের সংবর্ধনা, ভারতীয় ডাক বিভাগের বিশেষ খাম ও ডাকটিকিট প্রকাশ, ‘প্রবীণ অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের আড্ডা’ এবং ‘MAHANAYAK: A SUPERSTAR JOURNEY’ তথ্যচিত্র প্রদর্শনেরও আয়োজন রয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে দুটি বিশেষ আলোচনা, ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’ এবং ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’। মহানায়কের সহকর্মী ও উত্তরসূরি শিল্পীদের দৃষ্টিতে তাঁর অভিনয়সত্তা, শিল্পীজীবন এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবস্থান নিয়ে হবে নিবিড় আলোচনা। একই সময়ে নন্দনের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে চলবে তাঁর চলচ্চিত্রের প্রদর্শন।

৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র সদনে সংগীত ও নৃত্যনির্ভর বিশেষ উপস্থাপনা ‘উত্তম কুমারের প্রতি সঙ্গীত-শ্রদ্ধাঞ্জলি’-এর মাধ্যমে শেষ হবে জন্মশতবর্ষ উদযাপনের এই পর্ব। দেবজ্যোতি মিশ্র ও ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের পরিকল্পনায় এবং বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে এই নিবেদন মহানায়কের অমর সৃষ্টিকে নতুন সুরে, নতুন প্রজন্মের অনুভবে পুনরাবিষ্কার করবে।

শুধু মঞ্চ বা প্রেক্ষাগৃহে সীমাবদ্ধ না থেকে মহানায়কের জন্মশতবর্ষকে কলকাতা শহরের সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গেও যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মেট্রোরেল, ট্রাম, শহরের বিভিন্ন বিভিন্ন প্রান্তে হোর্ডিং, ল্যাম্প-পোস্ট, বাস-স্ট্যান্ডকে মহানায়কের ছবিতে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। LED ভ্যান ও ট্যাবলোসহ বিস্তৃত নগর-সজ্জার মাধ্যমে ‘শতবর্ষে মহানায়ক’কে শহরের নাগরিক জীবনের দৃশ্যমান অংশ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহানায়কের জন্মস্থান, পৈতৃক বাড়ি, স্মৃতিবিজড়িত স্থান এবং ঐতিহাসিক স্টুডিও গুলিতেও আলো ও সজ্জার পরিকল্পনা রয়েছে।

‘শতবর্ষে মহানায়ক’ তাই নিছক স্মরণোৎসব নয়; এটি বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল অধ্যায়কে শ্রদ্ধার সঙ্গে ফিরে দেখা এবং সেই উত্তরাধিকারকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক সম্মিলিত সাংস্কৃতিক প্রয়াস।

By Ramiz

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *