বিক্রম ঘোষ-এর হাত ধরে ফিউশন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর ‘নাদ’ ফেস্টিভ্যালে  এবার চাঁদের হাট

 

সঙ্গীতের আসর কলকাতায় নতুন নয়। কিন্তু ‘নাদ’ এমন এক অভিনব উচ্চমানের মনোজ্ঞ ফিউশন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর যেখানে শ্রোতারা বিরল যুগলবন্দির সুর-তাল-ছন্দে নিজেদের জারিয়ে নিতে পারেন। এবারেও তার অন্যথা হচ্ছে না। ভারতীয় বিদ্যা ভবন এবং পন্ডিত শঙ্কর ঘোষ তবলা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বসন্ত-সন্ধ্যায় বসছে “নাদ”-এর আসর। গোটা অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে থাকছেন মায়েস্ত্র বিক্রম ঘোষ।

‘নাদ’-এর বয়স মোটে পাঁচ। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জগতের ঐতিহ্যে নতুন পালক। কিন্তু এই পাঁচ বছরেই কলকাতার মন জয় করে নিয়েছে এই অনুষ্ঠান। এবারে ২০ থেকে ২২ মার্চ এই তিনদিন ধরে জি ডি বিড়লা সভাঘরে বসছে ‘নাদ’-এর আসর প্রতিদিন সন্ধ্যে ৬ টা থেকে। প্রত্যেক বছরের মত এবারও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তাবড় তাবড় শিল্পীরাই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। ধ্রুপদী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সঙ্গে থাকছে ফিউশন।  ‘নাদ’-এর প্রথম দিনে থাকছে ‘ফেডিং ট্র্যাডিশন এন্ড এমার্জিং সাউন্ড’ এবং ‘রাগ টু সেলুলয়েড’। এই পর্বে সূত্রধর বিক্রম ঘোষ নিজে। দ্বিতীয় দিনে থাকছে পন্ডিত কুশল দাসের সেতার লহরী। সঙ্গে থাকছে ‘ডান্স অফ ইন্ডিয়া’, এই পর্বে অংশগ্রহণ করবেন প্রীতি প্যাটেল, জয়া শীল ঘোষের মত প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পীরা। মনিপুরী থেকে ভারতনাট্যম, কথাকলি, কত্থক, ছৌ–ভারতবর্ষের সমস্ত নাচের সম্ভার উঠে আসবে এই পর্বে। তৃতীয় এবং শেষ দিনে থাকছে পন্ডিত তরুণ ভট্টাচার্য-এর সন্তুর মূর্ছনা, সঙ্গতে মায়েস্ত্র বিক্রম ঘোষের তবলা। শেষ অনুষ্ঠান ‘ক্লাসি-ফোক কোলাব’। বীনা, গায়কী, তবলা,বাঁশি, ঢোল এবং আরো বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রণ। এক অভিনব সুরের মূর্ছনায় ভাসবে কলকাতা। এক ঝাঁক তরুণ তুর্কি দাপিয়ে বেড়াবে গোটা অনুষ্ঠান।

 ভারতীয় বিদ্যা ভবন-এর তরফ থেকে জি ভি সুব্রহ্মমনিয়ম এবং বিক্রম ঘোষ দুজনেই চান কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্যে অন্য মাত্রা আনতে। বলা বাহুল্য, কলকাতায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্যে ‘নাদ’ সেই নতুন পালক। বিক্রম ঘোষের কথায়, “এই বছরে গোটা ফেস্টিভ্যালটা খুব ক্রয়েটিভলি ভাবা হয়েছে। প্রথম দিন ‘ফেডিং ট্র্যাডিশনে যে সকল যন্ত্রগুলো যেমন সানাই, সারেঙ্গি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সেগুলো যুগপোযুগী করে বাজানো হবে। আবার এমার্জিং সাউন্ডে আইপ্যাডে ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক বাজিয়ে শোনাবেন মহেশ রাঘবন, ইন্দ্রায়ুধ মজুমদার বাজাবেন ইলেকট্রিক সরোদ, অভিষেক মল্লিক বাজিয়ে শোনাবেন ইলেকট্রিক সেতার–এইভাবে পুরনো এবং নতুন বাদ্যযন্ত্রগুলোর মধ্যে একটা মেলবন্ধন করার চেষ্টা থাকবে। এছাড়া সিনেমায় যেভাবে রাগসঙ্গীত ব্যবহার করা হয়েছে,এবার সেইসব রাগসঙ্গীত পরিবেশন করার পরিকল্পনা আছে। শেষ দিনে আমার তবলার সঙ্গে পন্ডিত তরুণ ভট্টাচার্যের সন্তুরের একটা পরিবেশনা থাকবে। সব মিলিয়ে আশা করছি এবছর ‘নাদ’-এ এক নতুন স্বাদের সঙ্গীত উপভোগ করতে পারবেন দর্শক।”

By Ramiz

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *