✍️By Ramiz Ali Ahmed

ছবি:গুডবাই মাউন্টেন
পরিচালক ইন্দ্রাসিস আচার্য
অভিনয়:ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, অনির্বান ভট্টাচার্য, অনন্যা সেনগুপ্ত
সঙ্গীত পরিচালক:রণজয় ভট্টাচার্য

প্রকৃতি যেন ক্যানভাস আর ইন্দ্রাসিস আচার্যর “গুডবাই মাউন্টেন” যেন জীবনমুখী কবিতা সেই ক্যানভাসে।’বিলু রাক্ষস’,’পিউপা’,’পার্সেল’, ‘নীহারিকা’র পর ‘গুডবাই মাউন্টেন’ ইন্দ্রাসিস আচার্যর পঞ্চম ছবি ।পরিচালক এসেছিলেন একটি ছবি নির্মাণের জন্য,দর্শকদের ভালোবাসায় বানিয়ে ফেললেন পাঁচটি ছবি।প্রতিটি ছবিই সম্পর্কের গপ্প বলে।সে সম্পর্ক যে সবসময় পূর্ণতার সম্পর্ক নয়।সব প্রেমই কি বিয়েতে পূর্ণতা পায়?…না,বলা ভালো বেশিরভাগই না।আবার সব বিয়েতেই কি প্রেম থাকে?…উত্তরে না।প্রেমের কি কোনো বয়স হয়?একদমই না…প্রেম বয়সেরও কোনো গন্ডি মানে না।প্রেম জাত মানে না,মানে না কোনো সামাজিক নিয়ম।অপূর্নতা পাওয়া প্রেমের অনুভূতি থাকে সারাটা জীবন,সেই অনুভূতি কষ্টের কিন্তু সেই কষ্ট বোধহয় বেশিরভাগ মানুষেরই আছে।

ইন্দ্রাসিস আচার্যের ছবি “গুডবাই মাউন্টেন” এরকম একটি পূর্নতা না পাওয়া প্রেমের গল্প বলে।খুব চেনা গল্প,কিন্তু অচেনা বলার ধরনে মুগ্ধ হতে হয়।গল্প আবর্তিত হয় অর্জুন-আনন্দীকে ঘিরে।২২ বছর আগে ভেঙে যাওয়া একটি সম্পর্ক।অর্জুন একাকীত্বকে তার সঙ্গী করে নেয়।কেরলের ওয়ানাডের পাহাড়ি অঞ্চলে থাকেন এখন।একটি হোমস্টে চালান।পাহাড়ি অঞ্চলে মনটাও এখন তার পাহাড়।একাকী জীবনে অর্জুন যখন তার মৃত্যুর ঘন্টা শুনতে পায়-সেই সময় সে বাইশ বছর আগে ছেড়ে যাওয়া আনন্দীকে ২২ দিনের জন্য কাছে পেতে চায়।আনন্দী এখন বিবাহিতা,স্বামী রথিজিৎ ও ছেলেকে নিয়ে সংসার।আনন্দীর অর্জুনের-এর কাছে আসা এতবছর পর,অর্জুন যেন প্রাণ ফিরে পায়।যেন আনন্দীর অপেক্ষাতেই অর্জুন এতবছর ছিল।তবে এ প্রেম ‘প্লেটোনিক প্রেম’,বলা ভালো এ প্রেমে কোনো শারীরিক চাহিদা নেই ।অর্জুন-আনন্দীর দেখা হওয়ার শর্ত ছিল কেউ কাউকে কোনো প্রশ্ন করবে না।অর্জুন পাহাড়ি অঞ্চল ঘুরে দেখায় পুরোনো বন্ধুকে।এতবছর একসাথে না থাকলেও দুজনের অনুভূতিতে,অনুভবে হৃদয়ে দুজনেই দুজনকে বহন করেছে।সময়ের সঙ্গে আনন্দি জানতে পারে অর্জুন বিশেষ অসুস্থ,মৃত্যুর জন্য দিন গুনছে।এরই মাঝে আনন্দির স্বামী রথিজিৎ স্ত্রীর কাছে সেই হোমস্টেতে আসে।রথিজিৎ দর্শনে হোক বা বুদ্ধিমত্তায় কোনোদিক থেকে আনন্দির যোগ্য বলে মনে হয়না,না আছে মনেরও মিল।আনন্দি রথিজিৎ-এর কাছে যেন শারীরিক ক্ষিদে মেটানোর এক উপকরণ মাত্র। ক্রমে রথিজিৎ এর বুঝতে অসুবিধা থাকে না আনন্দির এ বন্ধু ‘বিশেষ’ বন্ধু।তারপর কি হয় সেটা না হয় সিনেমা হলেই দেখলেন।

ইন্দ্রাসিস তার চরিত্রদের এতটাই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন যে কোথাও কারোর চরিত্র অতিরঞ্জিতের সামান্যতম ছোঁয়া দেখা যায় না,সকলেই বাস্তবের অতি চেনা চরিত্র।আনন্দির চরিত্রে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ছবির মুখ্য সম্পদ, অর্জুন চরিত্রে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তর নরম অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কেটে যায়।’পুরাতন’-এ যেমন ঋতুপর্ণা-ইন্দ্রনীল জুটিকে দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছিল।এ ছবিতেও ভালো লাগতে বাধ্য।এই জুটি যেন বাংলা ছবির ব্যাতিক্রমী এক রোমান্টিক জুটি ।রথিজিৎ-এর চরিত্রে সাংবাদিক অভিনেতা অনির্বান ভট্টাচার্যর সাবলীল অভিনয় ছবির আরেক সম্পদ।চিকিৎসকের চরিত্রে অনন্যা সেনগুপ্ত যথাযথ।রণজয় ভট্টাচার্য’র সুরে ছবির গানগুলো ছবির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখে।প্রতিটি গানই মন ছুঁয়ে যায়।সবথেকে প্রশংসার দাবিদার সিনেমাটোগ্রাফার শান্তুনু দে।কেরলের ওয়ানাড়েকে শান্তনু দে এত সুন্দরভাবে দৃশ্যগ্রহণ করেছেন চোখ জুড়িয়ে যায়।নিজের লেখা কাহিনী,চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ইন্দ্রাসিস আচার্য’র “গুডবাই মাউন্টেন” ইন্দ্রাসিসের কেরিয়ারে আরেকটি অন্যতম সম্পদ হয়ে থাকবে।

By Ramiz

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *