বক্স অফিসে এক অনন্য নজির স্থাপন করে পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্তের সামাজিক নাট্যধর্মী ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’ সফলভাবে ৫০ দিন পূর্ণ করেছে। গত ১ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই ছবিটি দর্শক ও সমালোচক—উভয় মহল থেকেই বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই সাফল্যময় যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি মলের ইনক্স মাল্টিপ্লেক্সে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির কলাকুশলী, বিশিষ্ট অতিথি এবং তারকা ব্যক্তিত্বরা।
তারকাখচিত উদযাপন
শ্রী অভিজ্ঞান ড্রিমওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যানারে প্রযোজক অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রযোজিত এই ছবির সাফল্য ভাগ করে নিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্ত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছবির একঝাঁক শিল্পী—শিলাজিৎ মজুমদার, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরুণাভ খাশনবিশ, অভিপ্সা চট্টোপাধ্যায়, রানা বসু ঠাকুর, রাধিকা প্রীতা মজুমদার, অর্পিতা চক্রবর্তী এবং সায়নী চট্টোপাধ্যায়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ছবির টিম ও দর্শকদের মধ্যে এক প্রাণবন্ত আলাপচারিতা। দর্শকদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় আপ্লুত হয়ে পড়েন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। কেক কেটে উদযাপন করা হয় এই বিশেষ মুহূর্ত, আর হাসি-আনন্দে ভরা সেই আড্ডা অনুষ্ঠানকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
কেন অনন্য ‘প্রত্যাবর্তন’?
সমসাময়িক সমাজের নানা সংকট ও টানাপোড়েনই ‘প্রত্যাবর্তন’-এর মূল উপজীব্য। শহুরে জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আধুনিক জীবনের আবেগগত বিচ্ছিন্নতা এবং বর্তমান প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলিকে অত্যন্ত বাস্তবধর্মীভাবে তুলে ধরা হয়েছে ছবিতে।
একজন সার্জন ও তাঁর পরিবারের আবেগঘন যাত্রা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের শিকড়ে ফিরে আসার বার্তা দর্শকদের হৃদয় গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
ছবিতে রয়েছে এক শক্তিশালী তারকাসমৃদ্ধ দল, যাঁদের অসাধারণ অভিনয় ছবিটিকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
অভিনয়ে রয়েছেন:
অঞ্জন দত্ত
রূপা গঙ্গোপাধ্যায়
শিলাজিৎ মজুমদার
অপরাজিতা আঢ্য
খরাজ মুখোপাধ্যায়
কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিপ্সা (মিষ্টি) চট্টোপাধ্যায়
ডা. কৌশিক ঘোষ
আরজে দীপাঞ্জন ঘোষ
অরুণাভ খাশনবিশ
রানা বসু ঠাকুর
রাধিকা প্রীতা মজুমদার
অর্পিতা চক্রবর্তী
সায়নী চট্টোপাধ্যায়
এছাড়াও, বনি চক্রবর্তী, শিলাজিৎ মজুমদার এবং গৌরব তাপাদারের সুরে, রূপম ইসলাম ও ইমন চক্রবর্তীর কণ্ঠে ছবির গান ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
‘আই ওপেনার’ বলে খ্যাত এই ছবিটি
টানা ৫০ দিন ধরে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের উপস্থিতি আর লাগাতার হাউসফুল প্রমাণ করে যে, ‘প্রত্যাবর্তন’ শুধুমাত্র একটি বিনোদনমূলক ছবি নয়, এটি এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দলিল। চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, বিশেষ করে ১৩ বছরের ঊর্ধ্বে কিশোর-কিশোরী এবং তাঁদের অভিভাবকদের জন্য ছবিটি এক গুরুত্বপূর্ণ ‘আই-ওপেনার’।
সাউথ সিটির এই বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘প্রত্যাবর্তন’-এর টিম তাঁদের শুভানুধ্যায়ী ও দর্শকদের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই ছবিটি নয়ডা ও বেঙ্গালুরুতেও মুক্তি পেয়েছে। খুব শীঘ্রই দেশের অন্যান্য শহর এবং বিদেশেও ছবিটি মুক্তি পাবে।
বাণিজ্যিক সাফল্য ও সামাজিক প্রভাব—দুই ক্ষেত্রেই ‘প্রত্যাবর্তন’-এর এই অর্জন নিঃসন্দেহে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

