নিজস্ব প্রতিবেদক:ছোটপর্দার পর এবার ওয়েব সিরিজে ‘খুকুমণি হোম ডেলিভারি’র দীপান্বিতা রক্ষিত। দীপান্বিতাকে দেখা যাবে ক্লিকের নতুন সিরিজ ‘প্রফেসর সেনগুপ্ত’-তে। পরিচালক রাজদীপ ঘোষ। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জয় সেনগুপ্ত। জানা যাচ্ছে, পাহাড়ের মাঝে নিশ্চিন্ত ছিমছাম জীবনযাপন এক সাইকোলজির প্রফেসারের। মূল মহিলা চরিত্র তিন্নির (দীপান্বিতা) সঙ্গে তার দারুণ বোঝাপড়ার মাঝেই গল্পে জুড়ে যান এক ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার। এর নেপথ্যে একটা মৃত্যু। এই মৃত্যু সাধারণ দুর্ঘটনা নাকি খুন, তা নিয়ে এগিয়েছে গল্প। প্রতিমুহূর্তে রয়েছে রহস্যের পরত। ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে শুটিং। তবে কবে মুক্তি পাচ্ছে , তা এখনও জানা যায়নি।

দীপান্বিতা জানিয়েছেন,”এটি আমার প্রথম ও সিরিজ, এবং আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে আমি এই গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব ডেবিউ আত্মপ্রকাশের যাত্রাটি ক্লিক-এর সাথে করতে পেরেছি। আমি তাদের সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি, এবং এখন ক্লিক পরিবারের একটি অংশ হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমার সহ-অভিনেতারা দারুণ ছিলেন, এবং শুটিং সেটে আমাদের খুব স্বাচ্ছন্দ্যের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও মনোরম পাহাড়ে শুটিংয়ের সময়সূচি খুবই ব্যস্ত ছিল এবং আবহাওয়া কখনও কখনও বেশ বিপজ্জনক ছিল, আমি ছোট এই অ্যাডভেঞ্চারের অভিজ্ঞতাটি পুরোপুরি উপভোগ করেছি।

“প্রফেসর সেনগুপ্ত” একটি গভীর স্তরযুক্ত গল্প, এবং আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে আমি জয় সেনগুপ্ত এবং জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রতিভাবান সিনিয়রদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, যাদের আমি ছোটবেলা থেকে পর্দায় দেখে বড় হয়েছি। আমার সমসাময়িক জিৎসুন্দর এবং অনুজার সাথে অভিনয় করেও খুব উপভোগ করেছি। যদিও আমরা প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করছিলাম, আমরা একে অপরের সঙ্গে ভালো বন্ধন গড়ে তুলেছি এবং আমাদের অভিনয় আরও ভালো করার জন্য একে অপরকে সাহায্য করেছি।
সরল, তরুণ কর্মজীবী মেয়ে শ্রেষ্ঠার চরিত্র ফুটিয়ে তোলা একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা ছিল। সে তার কাজ এবং ভালোবাসার জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখে। সে একজন সাধারণ, সুন্দরী মেয়ে যার মুখে সবসময় হাসি লেগে থাকে এবং সে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে ও মানুষের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা তৈরী করতে পারে।

আমি অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে এই সিরিজটির জন্য অপেক্ষা করছি।”

প্রফেসর সেনগুপ্ত নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জয় সেনগুপ্ত।তিনি বললেন,
“কলকাতা ইন্ডাস্ট্রি প্রতিভায় সমৃদ্ধ হলেও, লম্বা দৌড়ের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চালানোর ক্ষেত্রে এখনো হয়তো কিছুটা পিছিয়ে।
অনেক প্ল্যাটফর্ম আশার আলো দেখিয়ে শুরু করেছিল, কিন্তু বেশিরভাগই টিকতে পারেনি—গুণগত গল্প বলা, আর্থিক স্থায়িত্ব ও নতুন দর্শক টানার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে না পেরে। ক্লিক (KLIKK) এই দিক থেকে ব্যতিক্রম—ওরা শুধু টিকেই থাকেনি, দৃঢ়তার সাথে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়েওছে। তার জন্য অবশ্যই অভিনন্দন প্রাপ্য তাদের।

এটি ছিল ক্লিক এর সাথে আমার প্রথম বাংলা ওয়েব সিরিজ। এবং এই কাজটি মানসিক ভাবে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং লেগেছে—মানসিক বিপর্যয়ের স্মৃতি ও লালসার টানাপোড়েন, সংস্কার ও নৃশংসতার দ্বন্দ্ব—সবকিছুর ভারসাম্য বজায় রেখে এগোনো।

এই প্রজেক্টের পরিচালক রাজদীপ ঘোষ ও তার টিমের মধ্যে এক অসাধারণ মানসিকতা দেখেছি —যেটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে দুর্লভ। চিত্রনাট্য কিংবা সীমিত কোনো পরিধির গণ্ডিতে আটকে না থেকে একটা নির্দিষ্ট ভিশন পূরণের আকাঙ্ক্ষা। রাজদীপ ও চিত্রগ্রাহক শুভজিত রায় মিলে সেই ভিশনকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও শৈল্পিক নিপূনতা নিয়ে এসেছেন, যা একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমি আশা করি দর্শকরা এই প্রজেক্টের পরিশ্রম ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করবেন ও প্রশংসা করবেন।

বহু স্বাধীন চলচ্চিত্রে কাজ করে আমি নানা রকম কষ্টে অভ্যস্ত। তবুও এই প্রজেক্টে কিছু বিশেষ ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল— সীমিত সময়, প্রচণ্ড গরম, আর প্রযুক্তিগতভাবে দুঃসাধ্য কিছু দৃশ্য নির্মাণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা। আশা করি, আমরা সেগুলি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।”

ছবির আরেক গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা জয়জিৎ ব্যানার্জি বললেন,”KLiKK-এর সাথে দ্বিতীয়বার কাজ করার অভিজ্ঞতা সত্যিই ঘরে ফেরার অনুভূতি হয়েছিল। অভিজ্ঞতাটি অসাধারণ ছিল। যেহেতু শুটিংটি আমার প্রিয় গন্তব্যগুলির মধ্যে একটিতে ছিল, তাই আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি – বিশেষ করে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, বাতাসে ঠান্ডার আভাস এবং আমাদের চারপাশের প্রকৃতি। আবহাওয়া নিখুঁত মেজাজ তৈরি করেছিল, এবং পোকামাকড়ের শব্দ এবং মাঝে মাঝে লোডশেডিংয়ের মধ্যে আমাদের শুটিং-পরবর্তী আড্ডা আরও স্মরণীয় করে তুলেছিল!

দীর্ঘ বিরতির পর একজন পুলিশের চরিত্র করা অবশ্যই একটি চ্যালেঞ্জ ছিল, বিশেষ করে যখন আজকাল এত অভিনেতা ইউনিফর্ম পরে থাকেন। আমি জানতাম যে আমাকে আলাদা করে দেখাতে একটু অতিরিক্ত ‘লবণ এবং মরিচ’ যোগ করতে হবে – এবং আমার মনে হয় আমি ঠিক তাই করেছি!

পরিচালক হিসেবে রাজদীপের সাথে এটি আমার প্রথমবার কাজ ছিল, এবং আমি অবশ্যই বলব, এটি একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি স্পষ্টভাষী ছিলেন, তিনি ঠিক কী চান তা জানতেন। স্ক্রিপ্ট এবং সংলাপগুলি সত্যিই আমার সাথে ক্লিক করেছিল।

দর্শকদের অবাক করার জন্য অপেক্ষা করছে – এই পুলিশটি। হাস্যরসের কিছু দারুণ অনুভূতি নিয়ে আসে। সে প্রায় খুনিকে ধরেই ফেলে… কিন্তু বাকিটা জানতে আপনাদের দেখতে হবে প্রফেসর সেনগুপ্ত।”

পরিচালক রাজদীপ ঘোষ সিরিজ প্রসঙ্গে জানালেন,
“যখন KLiKK প্রথম এই প্রজেক্ট নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং আমি গল্পটি শুনি, তখনই আমি বুঝতে পারি যে এটি এমন একটি গল্প যা আমি আগে কখনও করিনি। আমি সবসময়ই এই ধরণের গল্প নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সুযোগটি আমার কাছে আসেনি – এখনও পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই, উত্তেজনা ছিল অপরিসীম। আমরা বিভিন্ন স্থানে শুটিং করেছি, যদিও আমরা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু পুরো দলের অটল সমর্থন আমাদের এই গল্পটিকে জীবন্ত করে তুলতে সাহায্য করেছে।
KLiKK-এর সাথে আমার সম্পর্ক শুরু হয় ২০২৩ যখন আমি #Bhagar সিরিজ টি তৈরী করি। সেদিন থেকে আজও পর্যন্ত সেই সম্পর্ক খুব ভালো। KLiKK-এর কর্ণধার মিস্টার অভয় কুমার তাঁতিয়া আমাদের অভিভাবকের মতন গাইড করেন আর সেটাতে আমাদের কাজ করা খুব সহজ হয়ে যায়। আর প্রজেক্ট এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মিস্টার নিরাজ তাঁতিয়া যেভাবে পাশে থেকে সমস্ত দিক থেকে পাশে থাকেন তা অনস্বীকার্য। একজন ক্রিয়েটর এর ক্রিয়েটিভ ফ্রিডম ঠিক যতটা দরকার KLiKK এর যেকোনো প্রজেক্ট-এ সেটা আমি পাই। আশা রাখবো ভবিষ্যতেও এরকম ভাবেই কাজ করতে পারবো।

KLiKK-এর সাথে এটা আমার চতুর্থ কাজ হলেও জয় সেনগুপ্ত, জয়জিৎ, দীপান্বিতা, জিৎ সুন্দর এদের সকলের সাথেই এটা আমার প্রথম কাজ। প্রথম কাজ হলেও শুটিং ফ্লোর এ সেটা আমি কখনোই বুঝতে পারিনি। আমাদের ইদানিং খুবই কম সময়ের মধ্যে শুটিং শেষ করতে হয়। অভিনেতা অভিনেত্রীদের পারফরমেন্স নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। এরা প্রত্যেকেই এই ইন্ডাস্ট্রিতে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। আমার গাইডেন্স অনুযায়ী এরা অসাধারণ অভিনয় করেছেন আর তার রেজাল্ট সিরিজ বেরোলেই আপনারা দেখতে পাবেন।

দর্শকদের এটাই বলার, যে বিগত চার বছর ধরে KLiKK-এর এই নতুন ছন্দে সিরিজ-এর পরিবেশনের মধ্যে এটা একটা উপহার। ৫ এপিসোডের সাইকোলোজিক্যাল থ্রিলার। অসাধারণ অভিনয়, দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি আর তার উপরে হৃদয়স্পর্শী মিউজিকাল ট্রিটমেন্ট।”

By Ramiz

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *