✍️By Ramiz Ali Ahmed
১৯৬৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল অগ্রগামী পরিচালিত ‘শঙ্খবেলা’। নায়ক উত্তমকুমার, আর নায়িকা মাধবী মুখোপাধ্যায়। একে অন্যের হাত ধরে গেয়ে উঠেছিলেন ‘কে প্রথম কাছে এসেছি…’। বাংলা সিনেমা সোনালি সেই অধ্যায়ের কি পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে ২০২৫-এ?না এখনই সেই উত্তর পরিষ্কার না হলেও আভাস কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে।যদিও ছবির পরিচালক,নায়ক নায়িকা কেউই সেটা মানতে নারাজ।

পরিচালক বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘শঙ্খবেলায়’।শনিবার রাখিপূর্ণিমার পুন্যলগ্নে ছবির শুটিং করলেন পরিচালক বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়।ছবির শুটিং এ নিউটাউনের টেকনোপলসে হাজির হয়ে দেখা গেল বিশাল ইউনিট নিয়ে পরিচালক শুটিং এ ব্যস্ত।ব্যস্ততার মাঝে লাঞ্চটাইম সেরেই শর্ট নিতে ছুটলেন।শর্টের মাঝে সেট রেডি করতে করতে একফাঁকে পাওয়া গেল পরিচালককে।পরিচালকের কাছে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ছিল ১৯৬৬-এর ‘শঙ্খবেলা’র সঙ্গে মিল আছে কিনা?পরিচালকের সটান উত্তর “একদমই না।নামটা মিল।তাও আমার ছবির নাম ‘শঙ্খবেলায়’।এটা তাঁদের প্রতি ট্রিবিউট।এখানে শঙ্খ মানে পবিত্র আর বেলায় অর্থাৎ সময়।এই ছবি সম্পর্কের কথা বলবে,ভালোবাসার কথা বলবে।সমুদ্র এই ছবির একটা বড় প্রেক্ষাপট থাকবে।

এই গল্প ভালবাসার গল্প রজত আর বিথিকার। আবার সন্দীপ আর তৃষার ও ভালবাসার গল্প। ভালবাসা মানুষের জীবনের এমন এক অমোঘ ঘটনা যা সকলের জীবনে কোনো না কোনো সময়, কোনো না কোনো রাস্তা দিয়ে এসে উঁকি দেয়। কারোর কারোর সঙ্গী হয়ে রয়ে যায়। আবার কেউ তাকে আশ্রয় দেয় না।

এই গল্পের দুজন অন্যতম মুখ্য চরিত্র রজত আর বীথিকা। দুজনের দেখা পরিচয় সেই কলেজ জীবনে। বন্ধুত্ব, ভালোলাগা থেকে ভালবাসা। তারপর চার হাত এক হয়ে জীবনের পঞ্চাশ বছর এক সঙ্গে কাটিয়ে দেওয়া।
জীবন একসময় নিয়মের যাতা কলে পড়ে থেমে যায়। বীথিকা কে এসে নিয়ে যায় এক শঙ্খচিল, এক অচীনপুরে।

বীথিকা নেই, রজত এটা বিশ্বাস করে না। সকলে বলে রজত মানসিক ভাবে অসুস্থ। এত দিনের যত্ন করে ধরে রাখা সম্পর্ক ভাঙ্গায় সে বেসামাল। রজত কাউকে বোঝাতে পারে না, কাউকে বিশ্বাস করাতে পারে না বীথিকা আজও বেঁচে আছে। বীথিকা বেঁচে আছে তার অন্তরে, তার মননে। তার ভালবাসায়।
সন্দীপ আর তৃষা এখন কার জেনারেশন। দুজনের পরিচয় কর্ম জগতে। সন্দীপ আর তৃষা দুজনেই তাদের অতীত কে অতিক্রম করে একে অপরের কাছে আসে। তৃষাকে প্রথম দেখাতেই, সন্দীপ খুঁজে পায় তার সেই মনের মানুষ টাকে।
সন্দীপ আর তৃষার বন্ধুত্ব হয়। ক্রমে ভালবাসা, বিবাহ সম্পর্কে পরিণত হয়। সন্দীপ বিবাহর আগে তৃষার কাছে তার অতীত সম্পর্ক গুলো মেলে ধরে। সন্দীপ তৃষা কে কথা দেয় বিয়ের পর সে শুধু তৃষার হবে। তৃষা সন্দীপ কে তার জীবনে নিয়ে আসে।তৃষা আর সন্দীপ এর সম্পর্কে ফাটল ধরে। যখন সন্দীপ তৃষার অতীত জানে। সন্দীপের পুরুষ ইগো জাগ্রত হয়ে ওঠে। সন্দীপ তৃষার অতীত কে মানতে পারে না।সন্দীপ আর তৃষার সম্পর্কে মনের চেয়ে শরীর বড়ো হয়ে ওঠে। অন্য দিকে রজত তার মনের অন্তরে বীথিকা কে জাগ্রত করে রাখে।ভালোবাসা মনের তাগিদ। না শরীরের চাহিদা।না দুটোই। দুটোই হলে কে আগে আর কে পরে।এই নিয়ে এই গল্পের চলন। বলন আর কথন।ছবির কাহিনি,চিত্রনাট্য সংলাপ পরিচালকেরই।
এদিন শুটিং-এ দেখা গেল ওম ও মেঘা শুটিং-এ ব্যস্ত।ওম ও মেঘা দুজনেই জানালেন তারা অনেক দিনের একে অপরের বন্ধু।ছবিতে প্রথম জুটি হিসেবে কাজ করছেন।দুজনেই জানালেন বন্ধুরা শুটিং করলে তো শুটিং-এ মজা হবেই।তবে ছবিটা নিয়ে দুজনেই খুব আশাবাদী।দুজনের কাছে প্রশ্ন ছিল উত্তম কুমার-মাধবী মুখোপাধ্যায়ের চরিত্র করছেন?দুজনেই হেসে উত্তর দিলেন দুজনেই আমাদের খুব পছন্দের ও প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী কিন্তু অতটা ধৃষ্টতা বা সাহস নেই তাদের ওরা চরিত্র করবো।”
এই ছবিতে অভিনয় করছেন ওম সাহানি, মেঘা চৌধুরী, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, লাবণী সরকার, খরাজ মুখোপাধ্যায়,সঞ্জীব সরকার,বোধিসত্ত্ব মজুমদার,রজত গঙ্গোপাধ্যায়,শুভ্রজিৎ দত্ত,মৌসুমি ভট্টাচার্য, অলোক সান্যাল। ছবিতে তিনটি গান থাকছে।সঙ্গীত পরিচালনা করছেন অমিত সুর ও শমীক গুহ রায়।দৃশ্যগ্রহণ করছেন বিক্রম আনন্দ সাব্বিরওয়াল।গুরু নিগামানন্দ ফিল্মস এর ব্যানারে ছবিটির প্রযোজনা করেছেন বিশ্বজিৎ দাস।ছবিটি এবছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে বলে জানা গেল।
